1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : test2246679 :
  3. [email protected] : test29576900 :
  4. [email protected] : test44134420 :
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ১০:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কঠোর বিধি নিষেধ: দ্বিতীয় দিন চলছে গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর আর নেই করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিলেন পথের সময় সম্পাদক তৌকির রাসেল আড়াইহাজারে কোভিড-১৯ টেষ্টের নামে প্রতারণা,র‌্যাব-১১ এর অভিযানে গ্রেফতার ১ যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট রোটারী ক্লাব অব ডান্ডি ও তিলোত্তমা নারায়ণগঞ্জ জয়েন প্রজেক্টের কোমলমতী শিশুদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরীফ,পাঞ্জাবী-হিজাব ও টুপি প্রদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান আহরন করতে হবেঃ বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ কোন মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে বাদ না পড়ে, সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জে করোনা : ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ১৯২জন

নিউইয়র্কে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংসদ শামীম ওসমান : ‘নারায়ণগঞ্জকে ভালবেসে মন্ত্রী হইনি’

নিউইয়র্ক থেকে দর্পণ কবীর:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১
  • ৪৯ বার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী নারায়ণগঞ্জবাসীর দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি জননেতা আলহাজ্ব এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, পৃথিবীতে কেউ পারফেক্ট নন। মানুষের ভুল-ত্রুটি থাকবে। আমিও এর ঊর্ধে নই। তবে সবসময় চেষ্টা করেছি ভাল কিছু করার। ভাল কাজ করার মধ্য দিয়ে মানুষের ভালবাসা পেতে চেয়েছি সবসময়। ভাল কাজ করতে হলে সবার আগে ভাল মানুষ হতে হবে।

 

তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রতি নিজের ভালবাসার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাকে মন্ত্রী করার কথা বলা হয়েছে।কিন্তু আমি মন্ত্রী হতে চাইনি। আমি সবসময় নারায়ণগঞ্জ নিয়ে থাকতে চেয়েছি। নারায়ণগঞ্জকে ভালবেসে মন্ত্রী হইনি। নারায়ণগঞ্জ-ই আমার কাছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে আমাদের দাদার বাড়ি বাইতুল আমানে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বিচরণ ক্ষেত্র ছিল নারায়ণগঞ্জ। বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়াও লেখা হয়েছে এখানে। তবে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন আগে হয়নি। এখন আমি ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছি। এক-দু’বছর পর প্রবাসীরা নারায়ণগঞ্জ দেখে চিনতে পারবেন না। নিউইয়র্কের চেয়েও সুন্দর ও আধুনিক নারায়ণগঞ্জ দেখতে পাবেন।

 

সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, করোনাকালের মহামারী বুঝিয়ে দিয়েছে মানুষের জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। আমদের মনুষ্যত্ব আছে, কি নেই-সেটাও দেখেছি। কেউ বাবার লাশ ফেলে রেখেছে, আবার অন্য মানুষ এসে সেই লাশ দাফন করেছে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে, আমরা কি মানুষ হতে পেরেছি? আসলে করোনা মহামারী এসেছে মানুষকে শিক্ষা দিতে। আমাদের এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তিনি প্রবাসে বিরোধ না করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ঈর্ষা পরিহার করুন। কারো উন্নতি দেখলে খুশি হতে শিখুন। আর বিরোধ ভুলে নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বাড়ান। রাজনীতিতেও কে, কোন দল করলো, তা নিয়ে পড়ে থাকবেন না। প্রবাসীরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের কর্মকাণ্ডে যেন বাংলাদেশে মুখ উজ্জ্বল হয়।

 

 

তিনি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরার আহবান জানান অভিভাবক এবং মিডিয়ার প্রতি। তিনি বলেন, প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্ম মেধা ও মননে সাফল্য অর্জন করছে। এ সব খবর বেশি প্রকাশ হলে সবার মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হবে। এই মেধাবীরা যদি বাংলাদেশ নিয়ে ভাবে এবং বাংলাদেশে কাজ করে, তাহলে খুব দ্রুত বাংলাদেশে চেহারা বদলে যাবে।

 

তিনি ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করে বলেন, ২০ জনের মৃত্যু আর আমিসহ আরো সহকর্মীর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার কথা কোনদিন ভুলতে পারব না। কাপুরুষ খুনীরা খুন করতে পারে, কোনদিন সফলতা লাভ করে না। আমরা যাদের হারিয়েছি, তাঁদের সবসময় গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

 

শামীম ওসমান এমপি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, একটা সময় নারায়ণগঞ্জের পরিচয় দিতে মানুষ সঙ্কোচবোধ করতো। একটা সময় নারায়ণগঞ্জে নারীর সম্ভ্রব বিক্রি হতো। একটি নিষিদ্ধ পল্লী ছিল। সেখানে ১১ হাজারের বেশি নারী ছিল, এদের মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার ছিল অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে। আমি প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হবার পর স্ত্রীকে নিয়ে হজে গিয়েছিলাম। সেখানে মনে আসে নারায়ণগঞ্জের কলঙ্ক দূর করব। ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে নিষিদ্ধ পল্লী উচ্ছেদ করেছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে। নারী ও শিশুদের পুর্নবাসন করেছি সরকারের সহযোগিতায়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের দোয়ায় হয়তো আমি ২০০১ সালে ভয়াবহ বোমা হামলায় প্রাণে বেঁচে যাই।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেয় সরকারকে। ২৫% রাজস্ব আমরা দিই। নারায়ণগঞ্জে এখন উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। দু-একটি উন্নয়নের কথা বলছি। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর অব্দি ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এর ব্যয় হবে ২৬ শ’ কোটি টাকা। আমাদের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের জন্য ৫৫০ কোটি এনেছি। ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য বরাদ্দ করিয়েছি ১৭ শ’ কোটি টাকা। এ জেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলেজ হচ্ছে ৫টি। শীতলক্ষা নদীর ওপর দিয়ে আরো একটি ব্রিজ হবে। কুমিদিনি ওয়েরফের ট্রাষ্টের মাধ্যমে হাসপাতাল ও ক্যান্সার রিসোর্স সেন্টার হচ্ছে। আমি নিজ নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লার রাস্তঘাত নির্মাণের জন্য ১৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়েছি। আমি নানাভাবে এ সব টাকা সরকারের কাছ থেকে নিয়ে আসি। সত্য কথা বলতে কি-আমি অন্য যে কোন এমপি’র চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে এসেছি এলাকার উন্নয়নের জন্য।

 

শামীম ওসমান আরো বলেন, আমি নিয়মিত দু’বেলা পবিত্র কোরআন শরীফ পড়ি। আল্লাহকে খুঁজি। আমি সবসময় কল্যাণকর কাজের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি যারা করেন, সকলে খারাপ নন। ভালমন্দ উভয় আছে। ভাল মানুষের সঙ্গে থাকাকে বেছে নিতে হবে মানুষকে। এটি আমি শিখেছি আমার নেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। তিনি বাংলাদেশের এমন এক নেত্রী, যার সঙ্গে তুলনা করার কেউ নেই। তাঁর বিকল্প নেই।

 

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শামীম ওসমান এমপি’র এক সময়ের বন্ধু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি উত্তরামেরিকা’র সাবেক সভাপতি আরশাদুল বারী আসাদ এবং সভা পরিচালনা করেন তাঁর এক সময়ের রাজনৈতিক সহযোগী মনিরুজ্জামান সেলিম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন শামীম ওসমানের সহধর্মিনী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থা’র সভাপতি সালমা ওসমান লিপি এবং ডেমেক্রেট নেতা রেহান রেজা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কামরুন নেসা আহমেদ ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হুমায়ুন কবির তুহিন।

 

অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান এমপি এবং তাঁর সহধর্মিনী সালমা ওসমান লিপিকে ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ, শামীম ওসমান এমপি’র শ্বশুড় সাইফ উদ্দিন আহমেদ, প্রবাসী কাজী আজাহারুল হক মিলন ও মহসিন ননীর আরোগ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এই মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শিহাব উদ্দিন আহমেদ।

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সায়েরা রেজা, কামরুজ্জামান বকুল ও সেলিম ইব্রাহিম। সমবেত দর্শকদের অনুরোধে বিশেষ অতিথি সালমা ওসমান লিপিও একটি সঙ্গীত পরিবেশন করে সমবেতদের মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে সালমা ওসমান লিপি বলেন, ২০০১ সালের ১৬ জুন আমাদের জীবনে ছিল বেদনার দিন। ছোট-খাটো কেয়ামতের দিন যেন। আমরা হারিয়েছি আমাদের স্বজন-বন্ধু, নেতা-কর্মী। এদিন প্রায় ৩০ মিনিট আমি ভেবেছিলাম বিধবা হয়ে গেছি। সেদিন মানুষের ছিন্নভিন্ন শরীর আর রক্তস্রোত দেখেছি। কী ভযাবহ, কী নৃশংসা সে দৃশ্য! আমি আজো মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাই, কেউ যেন মানুষের এমন ক্ষতি না করে। তিনি বলেন, আমি মানুষের পাশে দাঁড়াই মোনাজাত নিয়ে। এই মোনাজাত মানুষের কল্যাণের জন্য। তিনি পৃথিবী অচিরেই করোনামুক্ত হোক-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁর বক্তব্যে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Telegraphnews24.com
Theme Dwonload From telegraphnews24.Com