1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : test2246679 :
  3. [email protected] : test25777112 :
  4. [email protected] : test29576900 :
  5. [email protected] : test34936489 :
  6. [email protected] : test44134420 :
  7. [email protected] : test46751630 :
  8. [email protected] : test8373381 :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাউন্সিলর পদে খান মাসুদকে সমর্থন দিলেন বাবুপাড়া পঞ্চায়েত কমিটি নাসিক ২২নং ওয়ার্ড এর তরুণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী খান মাসুদকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ র‍্যালীবাসী শ্রমিকরা ভাল থাকলেই দেশ ভাল থাকবে : পলাশ খেলাধুলা যুব সমাজ রক্ষা করার মূল হাতিয়ার : কাউন্সিলর দুলাল প্রধান আল- আরাফাহ’ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বন্দর থানা শাখার দুস্তদের মাঝে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ শ্রমিক নেতা পলাশের নির্দেশনায় নন্দলালপুরে ডাইং শ্রমিকদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে সভা করলেন পিয়াস আহম্মেদ সোহেল   “নারায়ণগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন”এর আত্মপ্রকাশ,সভাপতি জুয়েল,সম্পাদক সৈকত আসছে বিরাট পরিবর্তন:নির্যাতিত-ত্যাগী হবেন প্রার্থী তারেক জিয়ার নির্দেশে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে চিরতরে শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল : এড. শহীদ বাদল নাসিক ২৪ নং ওয়ার্ডে বিট পুলিশিং কমিটির মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নির্মম হত্যাকান্ডের নেপথ্যের কিছু কথা

এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৪ বার
১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট মানবতার ঘৃণ্য শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকের হাতে শহীদ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, আমাদের আদর্শের পথ প্রদর্শক বিশ্ব শান্তি ও স্বাধীনতার ও মুক্তিকামী মানুষের পথ প্রদর্শক অন্তহীন প্রেরনার উৎসাহ বিশ্বের শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তি দাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নির্মম হত্যা কান্ডের নেপথ্যের কিছু কথা।
বঙ্গবন্ধুর পূর্ব পুরুষেরা ছিলেন ইরাক থেকে আগত দরবেশ শেখ আউয়ালের বংশধর। শেখ আঃ হামিদের ৩ পুত্রের মধ্যে শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন বড় পুত্র। তার ঘরে ১৯২০ সালে ১৭ই মার্চ শেষ রাতে ঐতিহাসিক শেখ পরিবারের বঙ্গবন্ধুর জন্ম। গোপালগঞ্জের জন্ম থেকে শৈশব কেটেছে। বাল্য কাল থেকে সে তার উপকারী মনোভাব ও অন্যায়ের প্রতিরোধ সহ নানানভাবে নিজেকে চিনিয়েছেন।
তার গৃহ শিক্ষক হামিদ মাষ্টার বিকালে মধুমতি নদীর তীরে নারিকেল গাছের নীচে বসে বসে নানান গল্প শুনাতেন। একদিন বঙ্গবন্ধু স্কুলে যাওয়ার পথে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কিছু নেতাকে পুলিশ বেঁধে কোর্টে নেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু তার স্কুল শিক্ষক আঃ হামিদকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন উনারা কারা? তখন গৃহ শিক্ষক বলেছেন তাহারা রাজবন্দী। দেশের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে বৃটিশ শাসকের হাতে আটক হয়েছেন। সে হতে বঙ্গবন্ধুর অন্তরআত্মা থেকে বঙ্গবন্ধু রাজবন্দীর প্রেরণা পেয়েছেন। পরবর্তীতে তৎকালীন সময়ে শেরে বাংলা ও সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সাথে মিশনারী স্কুল পরিদর্শনকালে স্কুলের ছাদ মেরামতের ব্যাপারে দাবী করেন। তখন উক্ত দুই নেতা শেখ মুজিবের সাহস দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন এই ছেলে একদিন মহান নেতা হবে।
বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা হতেই পরোপকারী দয়ালু ছিলেন। প্রায়ই স্কুল থেকে ফেরার পথে কোন ভিক্ষুক বস্ত্রহীন কাহাকে দেখলে তাকে তার হাতের টাকা পয়সা, জামা কাপড় এমনকি গায়ের চাদর তাদের দান করে খালি গায়ে বাসায় ফিরতেন। কেউ প্রশ্ন করলে বলতেন পথে এক ব্যক্তিকে খালি শরীরে কাঁপছে দেখে গায়ের চাদর তাকে দিয়েছি। ঐ সকল ভিক্ষুক বা অন্যান্য তার এই প্রকার উদারতা দেখে তাকে আশির্বাদ করতেন। মুজিব তুমি বড় হয়ে দেশের বড় নেতা হবে।
১৯৫৩ সালে ভাষা আন্দোলনের পর তৎকালীন শক্তিশালী মুসলিম লীগকে মোকাবেলা করার অর্থে বলিষ্ট বিরোধী দল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এই সময়ে প্রথম নারায়ণগঞ্জে বাইতুল আমান ও পরবর্তীতে পাইকপাড়া মিউচ্যুয়াল ক্লাবে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম কাজী হুমায়ন কবিরের রোজ গার্ডেনের বাসায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে মাওলানা ভাসানীর উপস্থিতিতে পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।
নবগঠিত এ কমিটির প্রথম সভাপতি হয়েছেন মজলুম জননেতা মরহুম মাওলানা আঃ হামিদ খান ভাসানী। সাধারন সম্পাদক হয়েছিলেন টাংগাইলের যুবনেতা সামসুল হক যুগ্ম সম্পাদক নিযুক্ত হন ২ জন শেখ মুজিব ও খন্দকার মোস্তাক আহমেদ।
তৎকালীন ভাষা তাত্তিক আন্দোলনে সামসুল হকের অবদান ইতিহাস খ্যাত। তার যুযোপযোগী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখে অনেকের মতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পূর্ব বাংলার প্রথম উপ নির্বাচনে জনাব সামসুল হক টাংগাইলের মুসলীমলীগ প্রার্থী জমিদার হুমায়ুন খান পন্নীকে পরাজিত করে পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক ভাবে বিস্বয়ের সৃষ্টি করেন। কিন্তু কয়েক বৎসর পর সম্ভবত পারিবারিক কারনে তার মস্তিস্কে বিকৃতি ঘটায় ১৯৫৩ সালে মাওলানা ভাসানী খন্দকার মোস্তাকের পরিবর্তে বঙ্গবন্ধুকে দায়িত্ব অর্পন করেন। সে দিন থেকেই খুনি মোস্তাকের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
১৯৪১ সালে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে নিন্মতম কর্মচারী ধর্মঘটের সমর্থনের জের হিসাবে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃকপক্ষ স্থানীয় ১২ ছাত্র নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিষ্কার সহ নানান শাস্তি প্রদান করেন। শেখ মুজিব ছাড়া বাকি ১১ জনই ক্ষমার আবেদন করে ক্ষমা পেয়ে যান। একমাত্র শেখ মুজিব ক্ষমা না চাওয়ায় এবং মুসলেকা না দেওয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। শেখ মুজিব ছাত্র রাজনীতি করবো না বলে মুসলেকা দিতে অস্বীকার করায় বহিষ্কার হন এবং ছাত্র জীবনের প্রায় পরিসমাপ্তি ঘটে।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে কারাগার থেকে শেখ মুজিব মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৫৩ সালে এপ্রিল মাসে মাওলানা ভাসানী নিজে সভাপতি এবং কারামুক্ত মুজিবকে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাওলানা ভাসানী নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ভাসানীর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের জন্য এতো অধিক দক্ষ সাধারন সম্পাদক পাননি। ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার সাধারন নির্বাচনে শক্তিশালী মুসলিমকে মোকাবিলা করার জন্য হক সাহেব ও ভাসানীর নেতৃত্বে যুক্ত ফ্রন্ট গঠন করা হয়। ফলে চারদিকে এ ব্যাপারে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দিপনা দেখা দেয়। যুক্ত ফ্রন্টের প্রধান দুটি দল আওয়ামীলীগ ও কৃষক শ্রমিক পার্টির মধ্যে বোঝাপড়া করে দলের প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়। সে সময় দাউদকান্দির খন্দকার মোস্তাকের বাড়ি হওয়ায় সেখানে যুক্ত ফ্রন্ট থেকে তাহাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। খন্দকার মোস্তাক এখানে শেখ মুজিবকে আসামী দায়ের করে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের নিকট বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত মোস্তাক যুক্ত ফ্রন্টের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হন এবং সে সময়ে হক সাহেব ও সোহরাওয়ার্দী সাহেব দাউদকান্দি এলাকায় সশরীরে না গিয়ে মোস্তাককে অনানুষ্ঠানিক ভাবে সমর্থন দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাহাকে জয়ী করিয়ে আনেন। কিন্তু খন্দকার মোস্তাক আওয়ামীলীগে না এসে কৃষক শ্রমিক পার্টির ছত্রছায়ায় গিয়ে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের মন্ত্রী পদও পাননি। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে মোস্তাক নানা ঘাত প্রতিঘাত এর মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবকে ম্যানেজ করে পুনরায় আওয়ামীলীগে পদার্পন করে। শেখ মুজিবের প্রথম এ বিশ্বাসঘাত মোস্তাকে দলে স্থান দিয়ে বড় ভুল করেন।
১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাপ দল গঠন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অনেকটা শেখ মুজিবুরের হাতে চলে আসে। তিনি দলের সভাপতি হন সৈয়দ নজরুল সিনিয়র সহ-সভাপতি, তাজউদ্দিন সম্পাদক হন দলের মধ্যে উত্তরবঙ্গের মনসুর আলী, কাগমারীর কামরুজ্জামান ও দিনাজপুরের অধ্যাপক ইউনুস আলীকে দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসেন খন্দকার মোস্তাক আওয়ামীলীগে যোগদান করায় বঙ্গবন্ধু তাকে পুরনো সহকর্মীদের উপরে স্থান দিতে পারেন নাই। তার স্থান পাঁচ নম্বরে মোস্তাক একজন প্রতিষ্ঠিত আইজীবী ও মুজিব থেকে বয়সে বড়। প্রথম অবস্থায় শেখ মুজিব ও মোস্তাক একই সাথে দুই জন যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন কিন্তু শেখ মুজিবের দুঃসাহসিকতা জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় মুজিবের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে মোস্তাক অন্য দলে চলে গিয়ে পুনরায় দলে ফিরে এসে তার পূর্বের চাহিদা মতো পদ পাননি বলে তার মনে হিংসা জন্ম নেয় ও গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এই জের হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সকলকে হত্যা করে মোস্তাক তার প্রতিশোধ নিয়েছে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে মেজর শফিউল্লাহ ও মেজর জিয়া দুজনেই ক্লাস ফ্রেন্ড এবং একই ব্যারাকের ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার শফিউল্লাহ সাহেব ও জিয়াউর রহমান কে মেজর থেকে লেফটেনেন্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেন। স্বাধীনতার পর মেজর সফিউল্লাহ তাহার এস ফোর্স নিয়ে ঢাকাতে গ্যারিশন কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পান অন্যদিকে জিয়াউর রহমান জেড ফোর্স নিয়ে কুমিল্লায় একই পদে দায়িত্ব পান।
১৯৭২ সালে মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু, শফিউল্লাহ, জিয়াউর রহমান ফুল কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তখন সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন কর্নেল ওসমানী। একই বছর ৭ই এপ্রিলে শফিউল্লাহ সাহেবকে পদোন্নতি করে চিফ অফ আর্মি স্টাফ নিয়োগ করা হয়। তখন শফিউল্লাহ সাহেব প্রতিবাদ করেছিলেন কারন জিয়াউর রহমান, শফিউল্লাহ একই ব্যাচের লোক হওয়ায় সত্তে¡ও কর্নেল জিয়ার নাম ও শফিউল্লার নাম এই পদে দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় হতে পরবর্তীতে নানা কারনে মেজর জেনারেল রব কে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রায় ২ ঘন্টা আলাপ করে তার পদোন্নতির প্রতিবাদ করেন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন ইহা একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তুমি কি ওসমানী সাহেবের নিকট থেকে চার্জ বুঝে নাও তখন শফিউল্লাহ বলেছেন আমাকে এখানে ভিকটিম করা হইলো। জিয়াউর রহমান এই সিদ্ধান্তে মুক্ত হলেন আমাকে দোষী বানালেন।
সেই সময় শফিউল্লাহ সাহেব জিয়াউর রহমানকে কোড করে তাহার ও বঙ্গবন্ধুর কথা বলায় মেজর জিয়াউর রহমান ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন ওকে গুড বাই শফিউল্লাহ।
পরবর্তী বঙ্গবন্ধু অনুরোধে জিয়াউর রহমানকে ডেপুটি চিফ অব আর্মি পদ সৃষ্টি করে তথায় জিয়াউর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ক্ষুদ্ধ মন নিয়ে জিয়াউর রহমান তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঢাকায় আর্মি উইং পদে যোগদান করেন। তখন থেকে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিলেন ১৯৭৩ সালে শফিউল্লাহ ও জিয়াউর রহমানকে একই সময়ে একই দিনে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। জিয়াউর রহমান মনে প্রচুর দুঃখ ও বেদনা নিয়ে চাকরি করতে থাকেন। এর মধ্যে দেশের অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে ১৯৭৩ সালে সেনাবাহিনী নিয়োগ দেওয়া হলে মেজর ডালিম কুমিল্লায় কিছু কিছু ছাত্র নেতা ও কর্মীদের মারধর করেন। ইহাতে নেতা কর্মীদের মনে প্রচুর ক্ষোপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গাজী গোলাম মোস্তাক এর  ছেলের সাথে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গোলমাল করার প্রেক্ষিতে মেজর ডালিম গোলাম মোস্তাকের বাড়িতে হামলা করার ঘটনায় সেনাবাহিনীর নিয়ম ভঙ্গ করায় মেজর ডালিমকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। তখন কিছু মহল সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করতে থাকে এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তখন মেজর নূর যিনি ডেপুটি চিফ অব স্টাফের জিয়াউর রহমান পিএস ছিলেন তিনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আক্রমনাত্তক মন্তব্য করলে তাহাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর ফলে সেনাবাহিনীতে আরো ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মেজর ডালিম ও মেজর নূর পরস্পর আত্মীয় ছিলেন একই সময় পার্লামেন্টে রক্ষী বাহিনীর মেজিস্ট্রেট ক্ষমতা দিয়ে একটি আইন পাশ করা হয়। এর ফলে তৎকালিন সেনা বাহিনীতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সেনাবাহিনীতে তাহারা অপপ্রচার করে যে ভবিষৎ সেনাবহিনীর ক্ষমতা আরও কমিয়ে রক্ষী বাহিনীকে ক্ষমতা দেওয়া হবে। এসকল ঘটনায় সেনাবাহিনীতে বিশেষ করে নিম্ম শ্রেণির অফিসারের মধ্যে প্রচুর ক্ষোভ দেখা দেয়।
মেজর ডালিম ও মেজর নূর চাকরি হারালেও তাহারা নিয়মিত অফিসার ম্যাছে যাতায়াত ও টেনিস কোর্টে গিয়ে গোল টেবিল সভা করিত। তাহাতে সেনাবাহিনির প্রধান নিষেধ করা সত্তে ও সেখানে তাহারা যাতায়াত করত।
পাক মার্কিন সৃষ্ট বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষে বঙ্গবন্ধু যখন ভীষন বেদনার্ত ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভীক্ষে বহু মানুষ প্রান হারানোর বেদনায় মুহ্যমান সে সময়ে পাক মার্কিন চক্র ও এদেশীয় স্বাধীনতা বিরোধী ও অনুচররা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার নীল নকশা বাস্তবায়নে ব্যস্ত হন।
১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে মি. আই এর দায়িত্ব দেওয়া হয় ফিলিপ চেরিকে। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হ্যানরি কিসিঞ্জার তার সহযোগী জুলফিকার ভুট্ট, ফিলিপ চেরি, খন্দকার মোস্তাক, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, মাহবুব আলম চাষী, মেজর ডালিম, ফারুক, রশিদ, তাহের উদ্দিন ঠাকুর সহ অন্যান্যরা কয়েকবার গোপনে সলাপরামর্শ করতে থাকেন।
মার্কিন সাংবাদিক ক্রিস্টোফার এরিক এর ‘দ্যা ট্রায়োল অব হেনরি কিসিঞ্জার’ বইয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা কান্ডের মি.আই এর সংশ্লিষ্টতা ও কিসিঞ্জার সহ অন্যান্যদের সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ করেছে। উক্ত বইয়ে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে এ হত্যা কান্ডের বিচারের দাবি করা হয়। শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যা নয় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণ হত্যার জন্য ইয়াহিয়া, ভুট্ট ও কিসিঞ্জারকে অভিযুক্ত করা হয়। এ সকল ষড়যন্ত্র থেকে সেনাবাহীনির উশৃঙ্খল দল ১৫ আগষ্টের ঘটনার পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়।
১৪ আগষ্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু অন্যান্য দিনের মতো গণ ভবন থেকে অফিসের কাজ শেষে নিজ বাড়ী ৩২ নং ধানমন্ডিতে গিয়ে নিয়মিত রাতের খাবার শেষে শুয়ে পরেন। এদিকে ১৯৭৫ সালের ১৪ আগষ্ট রাতে নাইট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ছিল। রাত ৮ টায় মেজর রশিদের ও মেজর ফারুকের নির্দেশে এমটি পার্কে সেনাদের কল ইন করা হয়। মেজর রশিদের নির্দেশে সৈনিকরা অস্ত্র গোলাবারুদ নেয়। তারপর উপস্থিত সৈনিকদের ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। মেজর রশিদ ও মেজর ফারুক সৈনিকদের ব্রীফ করেন। সেখানে মেজর রাশেদ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন মোস্তফা, মেজর ডালিম, ক্যাপ্টেন মাজেদসহ লেফটেনেন্ট লিয়াকত ও নজরুল সহ কয়েক জন ছিলেন ছিলেন। তাছাড়া দেশের অবস্থা খারাপ থাকায় এ সরকারকে উৎখাত করার কথা বলা হয় এবং যাহাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে তাহা সঠিক পালন করতে হবে। নচেৎ কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে বলে প্রথমে তাহারা সেরনিয়াত এর বাসায় যায় সেখানে মেজর রাশেদ চৌধুরী, সেরনিয়াত সহ তাহার পরিবারের অন্যান্যদের নিচে গিয়ে এসে নিজ হাতে ব্রাশ ফায়ার করে তাহাদের মারা হয়।
অন্য একটি দল শেখ মুজিবরের বাসায় যায়। সেখানে শেখ মনি ও তাহার অন্তসত্ত্বা স্ত্রী আঞ্জুমান মনিকে ঘরের ভিতরে গুলি করে হত্যা করে। শেখ সেলিম ও শেখ কামাল পাশের দরজার ভিতরে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। এ দিকে অন্য একটি দল গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর ৩২নং বাড়ির দিকে আসে তখন ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা ও মেজর নূর সহ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রবেশ করে সকল গার্ড কাজের লোকদের হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ৩য় তলায় শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামাল ২য় তলায় শেখ জামাল ও তার স্ত্রী মধ্যখানের রুমে বঙ্গবন্ধু তার স্ত্রী বেগম ফলিতুন্নেছা মুজিব ও শেখ রাসেল অন্য রুমে শেখ রেজোয়ান খালি রুমে শেখ নাসের ছিলো।
গুলির শব্দ শুনে শেখ কামাল ৩য় তলা থেকে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্রাশ ফায়ার করলে শেখ কামাল রিসিভশন রুমে পরিয়া যায়। ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা ও মেজর নূর, মেজর মহিউদ্দিন গুলি করতে দোতলায় যায়। তখন বঙ্গবন্ধু দোতলার রুম হইতে বাইরে আসেন। এরপূর্বে বঙ্গবন্ধু নিচে এসে কয়েকবার উপরে চলে যান। এ সময় বঙ্গবন্ধু তাদের জিজ্ঞেস করে – ‘তোরা কি চাস?’ তাহারা বলে আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে। তখন তাহারা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে আসতে থাকে। তখন বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুকে সাদা পাঞ্জাবি কালো ফ্রেমের চশমা ও পাইপ খানা কাজের ছেলে আব্দুর রহমানকে দিয়ে পাঠিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধু সাদা পাঞ্জাবি পরে এক হাতে তাহার দিয়াশলাই অন্য হাতে পাইপ নিয়ে নামতে থাকেন। কয়েক সিড়ি নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে  তাকে লক্ষ্য করে ব্রাশ ফায়ার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধবন্ধুর দেহ সিড়ির মধ্যে পরে যায়। আঃ রহমান দৌড়াইয়া বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে এ ঘঠনা বলে। আঃ রহমান প্রাণের ভয়ে বঙ্গবন্ধুর রুমের বাথরুমে আশ্রয় নেয়। সেখানে শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রুজি জামাল বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের ও বঙ্গবন্ধুর আদরের ছোট ছেলে শেখ রাসেল ও এরপরে দরজা বন্ধ করে বেগম মুজিবও আশ্রয় নেয়। এরপূর্বে শেখ নাসেরের হাতে গুলি লেগে রক্ত পরতে ছিল। তখন বেগম মুজিব নিজের শাড়ীর আচল ছিড়ে নাসের ক্ষত হাত বেধে দেয়।
তখন ঘাতক দল দোতলায় এসে দরজায় পিটাইতে থাকে তখন বেগম মুজিব দরজা খুলে দেয় তখন আর্মিরা শেখ নাসের, বেগম মুজিব কাজের ছেলে রহমান ও শেখ রাসেল কে ধরে নিচে নামতে থাকে। সিড়ির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত দেহ দেখে বেগম মুজিব বলেন- ‘‘আমি যাবো না’। মারতে হয় আমাকে এখানেই মেরে ফেলো’’। তখন আর্মিরা তাহাকে দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে তাহাকে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল ও শেখ কামালকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে শেখ নাসের, আঃ রহমান ও শেখ রাসেল কে নিয়ে আসে। সেখানে বাথরুমে গিয়ে শেখ নাসেরকে ব্রাস ফায়ার করে হত্যা করা হয়। তখন শিশু রাসেল চিৎকার করে বলে – ‘তাহারা কি আমাকে মারবে নাতো? আমি মায়ের কাছে যাবো।’ তখন ঘাতকরা তাহাকে বলে চলো তোমার মায়ের কাছে দিয়ে আসি। অবুঝ শিশু বিশ্বাস করে তাদের সাথে দোতলায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়ের বুকের উপর উঠাইয়া তাকে গুলি করে, গুলিতে তাহার মাথার মগজ বাহির হইয়া যায়। এসময়ে অনেক সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুর বাসা থেকে আলমারি ভেঙ্গে স্বর্ণালঙ্কার বিদেশি মুদ্র, টাকা পয়সা যাবতীয় পোটলা বেধে নিয়ে যায়।
এ সময়ে নিচের গেটের কাছে মেজর ফারুক, মেজর শফিকুল হক ডালিম, মেজর নুর মেজর আজিজ, মেজর মহিউদ্দিন, ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা, সুবেদার মেজর আঃ ওহাব এক সাথে বলেছেন ‘অল আর ফিনিস।’
পরবর্তীতে খন্দকার মোস্তাক সংবিধানকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে সকল নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোস্তাককে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করার জন্য জঘন্য ইনডেমনিটি অদ্যাদেশ জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়ে ১৯৭৯ সালে ৬ই এপ্রিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত জারিকৃত সকল অধ্যাদেশ ও ঘোষনাকে বৈধ হিসাবে অনুমোদন ও সমর্থন দেওয়ার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি সংবিধানের অংশে পরিণত করেন যাহা পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে খুনিদের রক্ষা করার এরকম আইনের দ্বিতীয় কোন নজির নেই। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার বর্গ ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড বিচার যেমনই আইন করে বন্ধ করা হয়। তেমনই ৩ রা নভেম্বর  কেন্দ্রীয় কারাগারে সংগঠিত জাতীয় ৪ নেতার নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। শুধু তাহাই নয় জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যাকারীদের নির্বিঘেœ বিদেশে পাঠিয়ে রাষ্ট্রদূত বানিয়ে ও নানা ভাবে পুরস্কৃত করেছিলেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রয়ের প্রধান রমেশ্বর নাথ কান্ত বার বার বঙ্গবন্ধুকে এ ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে সতর্ক করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেসব বিশ্বাস করেন নি। বাংলাদেশের সেনাবাহীনি একটি গ্রæপ অসন্তুষ্ট হয়ে শেখ মুজিবরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। এ তথ্য রয়ের পক্ষ থেকে ভারতের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্দিকে জানিয়েছেন। ইন্দ্রিরা গান্দি নিজেও বঙ্গবন্ধুকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
পরবর্তী রয়ের প্রধান ঢাকায় আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে গণ ভবনের বাহিরে ফুলের বাগানে গিয়ে একান্ত ভাবে বঙ্গবন্ধুকে সকল বিষয়ে খুলে বলেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন ওরা সবাই আমার নিজের ছেলের মতো। তাহারা কেউই আমাকে আঘাত করবে না।  রয়ের প্রধান বলেছেন আমাদের তথ্য নির্ভর যোগ্য। আপনাকে সতর্ক করা হলো আপনি সাবধান হোন। বঙ্গবন্ধু অঘাত বিশ্বাস ছিলো বাঙালীর কোন সন্তান তাহাকে আঘাত করতে পারে না। এবং পারবেও না । দীর্ঘ ২১ বছর  পর ১৯৯৬ সালে  আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনা নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর সংবিধান থেকে এই কুখ্যাত কালো আইন (The indemnity (Repel) Act 1996) আইন অধ্যাধিকার বাতিল অস্তিত্বহীন বলে ঘোষণা করেন। এর পর বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যার বিচার শুরু হয়। ২০১০ সালের ২৮শে জানুয়ারী দীর্ঘ ৩৪ বৎসর পর সেই নৃসংশ নারকীয় হত্যাকান্ডের বিচারের মাধ্যমে ১২ জন খুনীর মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫ জন পলাতক ১ জন স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যুবরণ করেন বাকী ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই কিন্তু উনি রেখে গেছেন তাহার অসমাপ্ত কাজ। বঙ্গবন্ধু না থাকলেও তাহার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে দেশকে বিশ্ব দরবারে উন্নত দেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। যতদিন পরিশ্রম করেছেন দেশে উন্নত শিখরে নিয়ে যাওয়ার এবং বাংলার দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটানো জন্য। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসাগরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সকলকে এ উন্নয়নের মহা সড়কে লক্ষ্য বস্তুতে পৌঁছাতে সঠিক ভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মা শান্তি লাভ করবে। বঙ্গবন্ধু ও ১৫ই আগস্টে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি হউক এই কামনা করছি।
(এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া,
বীর মুক্তিযোদ্ধা আহ্ববায়ক সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ)

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 Telegraphnews24.com
Theme Dwonload From telegraphnews24.Com